রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে যথাযথ মনে করেন না বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় শফিকুর রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁরা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছেন। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো অবহেলা, গাফিলতি বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তা না করে যে হাসপাতালটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে, তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পোস্টে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি সেখানে নার্সিং কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং তারা কোথায় যাবে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সরকারের প্রতি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, তবে লাইসেন্স বাতিল করে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া কাম্য নয়।