• শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: গভর্নর ঘাটতি-ঋণনির্ভর বাজেট অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলবে খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান ১২ দলীয় জোটের বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ: সিপিডি বাজেট শ্রমজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ উল্লেখ করে সংশোধনের দাবি সড়কপথে বাংলাদেশে এসে কী বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার? ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার, ৮০ শতাংশ পদে অগ্রাধিকার নারীদের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে মধ্যরাতে চুরি, অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন পরিকল্পিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফের শীর্ষ বৈঠক

সড়কপথে বাংলাদেশে এসে কী বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৯ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

 

বাংলাদেশে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি ভারতের সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। প্রণয় ভার্মা ইতোমধ্যে বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

 

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কলকাতা থেকে বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছান দীনেশ ত্রিবেদী। পরে প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য নথিপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদী। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার সীমান্তে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এরপর সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

 

তবে তার এই সড়কপথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এমন সময়ে তিনি দায়িত্ব নিতে এলেন, যখন অনুপ্রবেশকারীদের ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

 

এ প্রেক্ষাপটে অনেকের মতে, বেনাপোল সীমান্তে নিয়ম মেনে বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে নতুন হাইকমিশনার এক ধরনের বার্তা দিয়েছেন—এক দেশের নাগরিকের অন্য দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

 

আবার অন্য একটি মহলের ধারণা, আকাশপথের পরিবর্তে সড়কপথে ভ্রমণ করে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জনপদ দেখে ঢাকায় পৌঁছানোর মাধ্যমে দেশটির প্রতি নিজের আন্তরিকতা ও আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চেয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে কাছ থেকে জানার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

এর আগে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে বিক্রম দোরাইস্বামীও সড়কপথে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তবে তখন করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তিনি বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন। বর্তমানে তেমন কোনো পরিস্থিতি না থাকলেও দীনেশ ত্রিবেদীর সরাসরি বিমানে না এসে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত হয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

 

বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমাদের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের ২০ কোটি যোগ করলে হয় ১৬০ কোটি মানুষ। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সবাইকে নিয়েই করতে চাই। আলাদাভাবে কিছু ভাবছি না। দেখুন, আমি হেঁটে চলে এসেছি। একই আকাশ, একই বাতাস—আমরা একসঙ্গে ভিসাসংক্রান্ত সমস্যারও সমাধান করব।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, আমাদের অভিন্ন স্বপ্নও রয়েছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, এমনকি অনেক চ্যালেঞ্জও অভিন্ন। তাই ভুল পথে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতার মধ্য দিয়েই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

 

নিজের দায়িত্বের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান অগ্রাধিকার বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। আমরা সবাই ভাইবোনের মতো। ভালোবাসা ও আন্তরিকতা থাকলে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আমাদের জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

 

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় ভারত সরকার।

 

৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকারের রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।

সূত্র: দ্য ওয়াল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category