যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা দামের ঊর্ধ্বগতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ৯২ ডলারের ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা তেলের বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এদিকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা অষ্টম সপ্তাহের মতো কমেছে। একই সঙ্গে পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পেয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এবং যুক্তরাষ্ট্রে মজুত আরও কমে গেলে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগে উত্তেজনা কমে এলে বাজারে আবারও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।