নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ারবাজারে অনিয়ম, কারসাজি ও বিতর্কিত লেনদেনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
একই সঙ্গে সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারের ১২টি আলোচিত ঘটনার ওপর অনুসন্ধান ও তদন্ত চালিয়েছে। এসব তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনা বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই ঘটনায় সাবেক কমিশনার শামসুদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তদন্তে দুর্নীতি ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।
আইএফআইসি গ্যারান্টিড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড সংক্রান্ত তদন্তে সালমান এফ রহমানকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তার ছেলে ও আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানাসহ আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরওয়ারকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
সংসদে দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়, কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড সংক্রান্ত ঘটনায় এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফরচুন শুজ লিমিটেড সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ১৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও বাজার কারসাজি নিয়ে ১১৪টি অনুসন্ধান, ১২টি তদন্ত এবং ৬৪টি পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে ৬৭৫টি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং ১৬টি বিষয় তদন্তের জন্য দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
তবে জরিমানার অর্থ কতটুকু আদায় হয়েছে, কতগুলো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে কিংবা দুদকে পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে কতটি মামলা হয়েছে- সে বিষয়ে সংসদে কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রতিকার পেয়েছেন কি না, তাও স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে বন্ডবাজার উন্নয়ন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), সুকুক ও কমোডিটি ডেরিভেটিভ চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
ইউনি/শাহোরা/