• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের সকল হাইস্কুল বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২১ Time View
Update : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

শিক্ষার্থীদের চলমান তীব্র আন্দোলনের মুখে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য সকল হাইস্কুলের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লেকর্নু। প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, নান্তেস. লিয়ো, স্ট্রাসবার্গ ও রেনেসের মতো বড় শহরগুলোতেও তীব্র বিক্ষোভ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ‘তারা আমাদের নিয়ে পরোয়া করে না’ এবং ‘বেঁচে থাকো বা পড়াশোনা করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশের বিভিন্ন শহরে শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

প্যারিসের দরিদ্রতম উপশহর থেকে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ৫ লাখ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন বলে দাবি করেছে হাইস্কুল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। তবে কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ বিক্ষোভকারী এই আন্দোলনে অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি করা, দুপুরের বিরতির সময় বাড়ানো ও স্কুলের সময়ের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন আনা।

এদিকে আন্দোলন দমনে ফ্রান্সের পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। এতে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লেকর্নু ক্লাস বাতিলের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে সেই ভবনের অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না।” তিনি প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ নিয়মের মাধ্যমে স্কুলগুলোর পরিস্থিতি উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি, অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবি পর্যালোচনা ও পুরোনো ক্যাম্পাস সংস্কাারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্রান্সের তীব্র বাজেট সংকট ও ঋণের বোঝার ভারে জর্জরিত অর্থনীতিতে এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ১৮ বছরের কম বয়সী। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্কসহ ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংঘর্ষে অন্তত ২১৫ জন কিশোর এবং ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অবাধ অভিবাসন ও মুসলিমদের দায়ী করে ফ্রান্সের এই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, “ফ্রান্সে যা ঘটছে তা বেপরোয়া গণ-অভিবাসন ছাড়া আর কিছু নয়। এটি স্কুল সম্পর্কে নয়, এটি হলো ইসলাম একটি একসময়ের মহান দেশকে দখল করতে চায়!”

বিশ্লেষকরদের মতে, মার্কিন নির্বাচনের আগে দক্ষিণপন্থি ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে এ ধরনের ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category