নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানাকে ঘিরে বহুল আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা হতে পারে। তামিমার আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই নাসিরের সঙ্গে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার রায় দেবেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায়ের অপেক্ষায় থাকা এ মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। তবে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে কি না এবং শাস্তির পরিমাণ কত হবে, তা সম্পূর্ণভাবে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
মামলাটি শুধু দেশের ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, আইন অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। কারণ, মামলার মূল প্রশ্ন হলো— আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন করে বিয়ে সংঘটিত হয়েছিল কি না।
বাদীপক্ষের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বাদী রাকিব হোসেনের দাবি, বৈধভাবে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এরপর ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন রাকিব। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের ভাষ্য, তামিমার পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনি প্রক্রিয়ায় শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া
মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে আসামিপক্ষ রিভিশন আবেদন করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তা খারিজ হয়ে যায়। একই বছরের ২০ মার্চ বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।
মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
এরপর তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন, যা গত ৮ এপ্রিল শেষ হয়। সবশেষে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।