• বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত পণ্যের করহার যথেষ্ট নয়: আহছানিয়া মিশন

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশে ৩৫ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। এর ফলে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর আরোপিত কর ও মূল্য কাঠামো যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা-পরবর্তী ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হক, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্নস্তরের সিগারেটের দখলে, যার প্রধান ভোক্তা দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী। প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। অথচ দেশের মাথাপিছু আয় ও মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়ে বেশি। ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত মূল্য কমে গিয়ে এর ব্যবহার বাড়তে পারে।

শরিফুল ইসলাম বলেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, সিগারেটের মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম কিছুটা বাড়ানো হলেও কর কাঠামোয় কোনো মৌলিক সংস্কার আনা হয়নি। ফলে মূল্যবৃদ্ধির একটি বড় অংশ তামাক কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফায় পরিণত হবে এবং তা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হতে পারে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম এবং করহার অপরিবর্তিত রাখার ফলে এসব পণ্য আরও সস্তা ও সহজলভ্য হবে। এতে বিশেষ করে নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

দাবি জানিয়ে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে তামাক কর ও মূল্য কাঠামোর সংস্কার, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে মূল্য বৃদ্ধি, সুনির্দিষ্ট করপদ্ধতি প্রবর্তন, বিড়ি, জর্দা ও গুলের কর ও মূল্য বৃদ্ধি এবং নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান নিকোটিন পণ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। এতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তরুণ প্রজন্মকে তামাকাসক্তি থেকে রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category