নিজস্ব প্রতিবেদক
তেহরান হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার পরিচালিত এই হামলার পর সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় ইরানের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের বর্ণনা দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চালানো হামলার এটি ছিল ‘আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া’।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, এর জবাব অত্যন্ত কঠোর ও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিল এবং সেটিই করা হয়েছে।”
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হামলা শুরু হয়, যা ভোর সাড়ে ৪টার আগেই শেষ হয়। ওয়াশিংটন ডিসির সময় অনুযায়ী এটি মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টার আগ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ ও বন্দরনগরী সিরিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে তারা জানায়, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত জাস্ক কাউন্টিতেও বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়।
ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়ার বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানায়, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানি বাহিনী।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বাহরাইনের রাজার এক গণমাধ্যম উপদেষ্টা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনের পাশাপাশি কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
তবে এসব ঘটনার বিষয়ে পেন্টাগন রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একই সঙ্গে রয়টার্সও যুদ্ধক্ষেত্রের এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের একটি আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
ট্রাম্প বলেন, হেলিকপ্টারটির দুই পাইলট আহত হননি এবং তারা সুস্থ আছেন। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘটনাটি “বড় কোনো বিষয় নয়” এবং পুনরায় উল্লেখ করেন, “পাইলটরা ভালো আছেন।”
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক সামরিক সূত্রের বরাতে দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক বাহিনী কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ওমান উপকূলে মোতায়েন তাদের নৌবাহিনীর একটি সারফেস ড্রোনের সহায়তায় অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলে টহলরত মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টারটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়।
সেন্টকম হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। তারা শুধু জানিয়েছে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুই পাইলটকে উদ্ধার করা হয় এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের তুলনায় এটি অপেক্ষাকৃত সতর্ক মূল্যায়ন।