দেশে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করাই বর্তমান বিরোধীদলের মূল উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে চাইলেও বিরোধীরা তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজারে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু পণ্য ভ্যাটমুক্ত রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “বিরোধীদল দাবি করছে, এটি গণবিরোধী বাজেট এবং তারা তা মানে না। অথচ যে বাজেটে কর কমানো হয়েছে, সেটিও তারা গ্রহণ করছে না। আবার মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হলেও তাদের আপত্তি রয়েছে। এতে বোঝা যায়, তাদের উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা।”
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার খাল পুনঃখনন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এর ফলে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছাবে এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষ ও জাতীয় স্বার্থের পক্ষে। নির্বাচনের পর ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অসচ্ছল নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রায় দুই যুগ পর কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে সকাল থেকেই কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিমানবন্দর থেকে পাতলী খাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাজারো নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পিএমখালীর পাতলী খাল সেই উদ্যোগের অন্যতম নিদর্শন। ১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তিনি নিজেই এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন।
সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের পাড় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশ সংরক্ষণও নিশ্চিত করা যায়।
দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর রাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।