জ্বালানি সংকটকে বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার’।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে পারস্পরিক নির্ভরশীল ও গঠনমূলক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী ঢাকা। প্রতিযোগিতামূলক, নিরপেক্ষ ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করে দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগের প্রথম সারির গন্তব্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে অধিকতর স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে টেকসই, স্বচ্ছ ও পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
প্রচলিত খাতের বাইরে অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান বৈশ্বিক ক্ষেত্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতির বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।