দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২২ সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া না হলে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি এ ধরনের আকস্মিক ও গণহারে চাকরিচ্যুতি শুধু অমানবিকই নয়, এটি শ্রম আইন, পেশাগত মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের সিংহভাগ বাংলাদেশ প্রতিদিনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন। কোনো আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে তাদের চাকরিচ্যুত করায় অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা মনে করেন, এমন ঘটনায় বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই নিজেদের দায় এড়াতে পারে না।
ডিআরইউ নেতারা আরো বলেন, সংগঠনের কাছে এমন তথ্য এসেছে যে, দীর্ঘদিন কর্মরত সাংবাদিকদের সরিয়ে নতুন করে জনবল বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সত্য হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত স্থিতিশীলতা এবং কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের জন্য বাংলাদেশ প্রতিদিন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের অবদান, শ্রম অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অন্যথায় সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় ডিআরইউ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
একই সঙ্গে দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার, পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান নেতারা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বার্থ, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ডিআরইউ সবসময় সোচ্চার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি সব সময় গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে ভূমিকা পালন করে যাবে।