নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে দিল্লির সিজেপির সমর্থনে গত ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে বাম ছাত্রদের একাধিক সংগঠন রাস্তায় নেমেছিল। শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত বিশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। আপত্তিকর পোস্টার, প্ল্যাকার্ড এবং স্লোগানের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপরেও আক্রমণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
সেই অশান্তির তদন্তে নেমে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বেছে বেছে মুসলমানদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ ওঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এমনকি রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমকি দিয়েছিলেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘গুণ্ডা দমন আইন’ প্রয়োগ করা হবে।
কিন্তু মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আদালতে শুভেন্দু সরকারের সেই অবস্থান ও যুক্তি শেষ পর্যন্ত টিকল না। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জন আন্দোলনকারীকেই জামিন দিয়েছেন কলকাতার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ৫০০ টাকার বন্ডে আদালত তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার সকালে শুনানির প্রথম পর্বে সরকারি আইনজীবীরা গ্রেপ্তারকৃতদের জেল হেফাজতের দাবি জানালে বিচারক ৩০ জুলাই পর্যন্ত তাদের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু দুপুরের পর দ্বিতীয় পর্বে শুনানি শুরু হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী ইয়াসিন রহমান, রাজা সেন এবং প্রশান্ত বাগচীরা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশের কপি আদালতে জমা দেন।
আইনজীবীরা জানান, নিট আন্দোলন নিয়ে দিল্লি বা বিহারসহ দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম আদালত। এমনকি আন্দোলনের জেরে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সম্মতির বিষয়টি বিচারকের নজরে আনা হয়।
এরপর বিচারক প্রশ্ন তোলেন, গ্রেপ্তারকৃত ১৬ জনের মধ্যে কারোর বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না। কারণ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, যাদের অতীতে অপরাধমূলক রেকর্ড আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ১৬ জনের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে পুরোনো রেকর্ড রয়েছে। তবে এই ৫ জন আগের কোনো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কিনা, তার স্পষ্ট প্রমাণ বা উত্তর পুলিশ পেশ করতে পারেনি। এর পরেই আদালত ১৬ জনকেই জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ‘গুণ্ডা দমন আইন’ প্রয়োগের হুমকি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত সুর। তিনি বলেন, “শুভেন্দু সব জেনেও মিথ্যাচার করছেন। রাজ্য বিধানসভায় বিল পাস হলেও গুন্ডা দমন আইন এখনো রাজ্যে কার্যকরই হয়নি। কারণ রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি এখনো এই বিলে স্বাক্ষর করেননি।”