• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

৪ যুগের জার্মান সাম্রাজ্যের পতন

স্পোর্টস ডেস্ক: / ২৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

৪ যুগের বেশি সময় থেকে চলে ফুটবলে জার্মান সাম্রাজ্যের অধ্যায় শেষ হয়েছে। ট্রাইবেকারে জর্মান শিবিরকে অজেয় ধরা হলেও তা আর রক্ষা করতে পারেনি তারা। ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে অজেয় অধ্যায়ের শুরু হলেও পতনের করুণ সুর বেজে উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে হওয়া ম্যাচের মধ্যদিয়ে। এদিন বোস্টন স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ে বদে নেমে নিজেরাই ধরাশায়ী হলো জার্মানরা। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ১-১ সমতায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে প্যারাগুয়ে কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ভাগ্য নির্ধারণের মঞ্চ টাইব্রেকারে আরও দৃঢ়, আরও সাহসী দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করে প্যারাগুয়ে। গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিলের অবিশ্বাস্য দুটি সেভ আর শেষ পর্যন্ত জোসে কানালের স্নায়ুচাপ সামলে নেওয়া নিখুঁত শট, এই দুই মুহূর্তেই লেখা হয়ে যায় বিশ্বকাপের আরেকটি স্মরণীয় অঘটনের গল্প।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল জার্মানির পায়ে। প্রথমার্ধে প্রায় ৭৮ শতাংশ পজিশন নিয়েও গোলমুখে কার্যকর হতে পারেনি ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল। বরং অপেক্ষা করছিল প্যারাগুয়ে। নিজেদের অর্ধে রক্ষণ গুছিয়ে রেখে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা নিখুঁতভাবেই কাজে লাগায় তারা।

৪২তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা দারুণ এক ক্রসে বক্সের ভেতরে অরক্ষিত অবস্থায় হেডে বল জালে পাঠান হুলিও এন্সিসো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ গোলখরা কাটিয়ে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় জার্মান সমর্থকদের গ্যালারি।

বিরতির পর অবশ্য ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে জার্মানি। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। অবশেষে ৫৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভার্টজের দারুণ ক্রসে শক্তিশালী হেডে সমতায় ফেরান কাই হাভার্টজ। এরপরও এগিয়ে যাওয়ার একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল জার্মানরা, কিন্তু প্রতিবারই দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ওর্লান্দো হিল কিংবা ব্যর্থ হয় শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং।

অতিরিক্ত সময়েও নাটকীয়তার কমতি ছিল না। ১০২তম মিনিটে জোনাথান টাহ বল জালে জড়ালেও ভিএআরের সাহায্যে গোল বাতিল করেন রেফারি। গোলের আগে জার্মানির একজন খেলোয়াড় গোলরক্ষক হিলকে বাধা দিয়েছিলেন বলে সিদ্ধান্ত আসে। সেই মুহূর্তে হয়তো ভাগ্যও প্যারাগুয়ের পক্ষেই ছিল।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ওর্লান্দো হিল। জার্মানির প্রথম শট নেওয়া কাই হাভার্টজের প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে নিক ভল্টেমাডের শটও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। যদিও প্যারাগুয়েও মাঝপথে দুটি সুযোগ নষ্ট করে জার্মানিকে ম্যাচে ফিরতে দিয়েছিল, তবু সাডেন ডেথে আর ভুল করেননি জোসে কানালে। তার বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট জালে জড়াতেই আনন্দে ভেসে যায় প্যারাগুয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।

এই জয় শুধু একটি নকআউট ম্যাচ জেতার গল্প নয়। এটি আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য আর বিশ্বাসের গল্প। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের আগের পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারা দলটি এবার শুধু সেই খরা কাটায়নি, বিদায় করে দিয়েছে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল জাতিকে।

অন্যদিকে, জার্মানির জন্য এটি আরেকটি হতাশার অধ্যায়। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর গত দুটি আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার বহু প্রত্যাশা নিয়ে নকআউটে ফিরেও প্রথম ধাপেই থেমে গেল যাত্রা। বলের দখল, অভিজ্ঞতা আর তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড, সবকিছুই ছিল তাদের পক্ষে। কিন্তু ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিল, ইতিহাস নয়, ফল নির্ধারণ করে মাঠের লড়াই আর মুহূর্তের দৃঢ়তা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category