• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী

৮৮ লাখ নির্যাতিত নারী-শিশু হেল্পলাইনে সহায়তা পেয়েছে

নিউজ ডেস্ক / ২৮ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে চালু হেল্পলাইন-১০৯ এ এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন আইন, নীতিমালা, সেবাকেন্দ্র ও সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস হয়েছে। এ আইনের আওতায় শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলার বিচার পরিচালিত হবে। এছাড়া অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিএনএ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সমন্বিত সেবা দিতে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওসিসি চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন, সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৮২ হাজার ৬৭৮ জন সেবা পেয়েছেন। এছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিচ্ছে।

সমাজের অনগ্রসর নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি করার লক্ষ্যে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেলাই মেশিন ক্রয়ে ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সেলাই মেশিন ক্রয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ক্রয়সাপেক্ষে মেশিন বিতরণ করা হবে।

নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, সরকারিভাবে কোনো পাটকল চালু নেই। ফলে সরকারিভাবে নতুন কোনো পাটক্রয় ও সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

তিনি বলেন, বিজেএমসি’র ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তন্মধ্যে ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে ১৪টি মিল ইজারা দেওয়া হয়েছে, যার ৯টি চালু হয়েছে। বাকি ৬টি মিলের ইজারা প্রদান কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালামের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জানান, দেশের বস্ত্রশিল্প অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৮শ’ কোটি মিটার বস্ত্রের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ৪শ’ কোটি মিটার ওভেন কাপড় এবং ৪শ’ কোটি মিটার নিট কাপড়।

তিনি বলেন, দেশের মিলগুলো নিট খাতে মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং ওভেন খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করছে। এছাড়া হস্তচালিত তাঁতশিল্প থেকে বছরে ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার মিটার কাপড় উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট বস্ত্র চাহিদার প্রায় ২৮ শতাংশ পূরণ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category