ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে সহযোগিতাকারী ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে, বিশেষ করে ইতালি ও রোমানিয়াকে- যুদ্ধাপরাধের জন্য অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি করেছে ইরান।
২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখমাত্র ইসমাইল বাঘাই এ দাবি জানান।
২৪ জুন (বুধবার) ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ইরানের ওপর সামরিক হামলায় সমর্থন দেওয়া ইউরোপীয় দেশ হিসেবে ইতালি ও রোমানিয়ার নাম প্রকাশ করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া এলো। খবর প্রেস টিভির।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “ন্যাটো মহাসচিব নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ইতালি ও রোমানিয়ার অংশগ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন।”
তিনি আরো যোগ করেন, “তারা এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনকে সহায়তাকারী অন্যান্য প্রতিটি ইউরোপীয় দেশকে অবশ্যই তাদের নিজেদের জনগণ এবং বিশ্বের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, কেন তারা এই চরম আগ্রাসনে অংশ নিয়েছে এবং মিনাব, লামের্দ, তেহরান, ইসফাহান, সানান্দাজ, হামাদান, তাবরিজ, শিরাজ, বন্দর আব্বাসসহ অন্যান্য অঞ্চলের ইরানি জনগণের ওপর সংঘটিত গণ-নৃশংসতায় সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে।”
বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মহাসচিব রুটে বলেন, রোম গোপনে ইতালির ঘাঁটিগুলো থেকে ‘৫০০টি মার্কিন বিমান’ উড্ডয়নের অনুমতি দিয়েছিল, অন্যদিকে রোমানিয়া ইরানের ওপর মার্কিন হামলা সহজতর করার জন্য বুখারেস্ট থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো সীমিত করেছিল।
বাঘাই রুটের এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি একটি সার্বভৌম জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্রাসনে ন্যাটোর সক্রিয় জড়িত থাকার এক স্পষ্ট এবং অকাট্য স্বীকারোক্তি।’ তিনি আরো যোগ করেন, “এই সংস্থা (ন্যাটো) এবং এর যেসব সদস্য রাষ্ট্র এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিয়েছে, তাদের অবশ্যই সব পরিণতির জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”
প্রেস টিভির প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলার মাধ্যমে, যার ফলে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হন।তবে এর ঠিক ৪০ দিন পর, ৮ এপ্রিল, ইরানের সাহসী প্রতিরোধ ও সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণের কারণে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে ১৭ জুন, তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে শত্রুতা অবসান ঘটানো ও পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আরো আলোচনার জন্য উভয় দেশের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।