• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চিপস কারখানায় অভিযান, ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫০হাজার জরিমানা বিরামপুরের জব ফেয়ারে নগদের নিয়োগপত্র পেলেন দুই তরুণ কেশবপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার দিনে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু নবাবগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা পূজা দেখতে গিয়ে সড়কে প্রাণ ঝড়লো দুই শিশুর হিলির পূজামন্ডপে মন্ত্রীর উপহার তুলে দেন বিএনপির নেতাকর্মীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আটক ১ অবৈধভাবে ইলিশ শিকার: নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী চক্র গলাচিপায় তরমুজের জমি মাপা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২

হিজবুল্লাহকে ২০ কোটি ডলার দিলো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৪০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননের নাগরিকদের সহায়তায় হিজবুল্লাহর কাছে ২০ কোটি মার্কিন ডলার পাঠিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর আর্থিক নজরদারির মধ্যেই গত মাসে বিপুল এই অর্থ লেবাননে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (৭ অক্টোবর) অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিজবুল্লাহ-সমর্থিত পরিবারগুলোর জন্য ইরানের পক্ষ থেকে এটি এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় সরাসরি আর্থিক সহায়তা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান থেকে হিজবুল্লাহর কাছে অর্থ পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও সেই বাধা এড়িয়ে অর্থটি লেবাননে পৌঁছানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত মধ্যস্থতাকারীরা ঝুঁকির কারণে অস্বাভাবিক উচ্চ হারে কমিশন নিয়েছেন।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের পরিমাণ মোট অর্থের প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক লেনদেনে যে কমিশন নেওয়া হয়, এটি তার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

হিজবুল্লাহর একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধিও ইরান থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি অর্থের উৎস, স্থানান্তরের পদ্ধতি কিংবা কোন কোন মাধ্যমে অর্থ লেবাননে পৌঁছেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারকে পরিবারপ্রতি ৩ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যেসব পরিবারের বাড়িঘর বা পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইভাবে যেসব এলাকা এখনো সামরিক উপস্থিতির কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দারাও সহায়তার আওতায় আসবেন।

তবে এই অর্থ কীভাবে নিরাপত্তাবেষ্টিত ও গোপন প্রক্রিয়ায় লেবাননে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অর্থের গতিপথ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের এই আর্থিক সহায়তা নিয়ে লেবাননে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও হিজবুল্লাহর আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তেহরানের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই অর্থ হিজবুল্লাহর সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রভাব ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ, সামরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, নিহত যোদ্ধাদের স্বজন এবং সংগঠনের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ স্থানান্তরের ওপর বাড়তি নজরদারি সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি। ইরানের নতুন এই অর্থায়ন সেই সক্ষমতাকে আরও জোরদার করতে পারে।

তবে এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category