ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রিত প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
৭ অক্টোবর (বুধবার) ইয়েমেন পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দরের রানওয়ে ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল লক্ষ্য করে অন্তত দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করে। মিশন থেকে একটি ফ্লাইট অবতরণের ঠিক কয়েক মিনিট আগে রানওয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফ্লাইটটির অবতরণ বাতিল করা হয় ও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
হামলার সময় বিমানবন্দর টার্মিনাল দ্রুত খালি করা ও টারম্যাক থেকে দুটি বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এই হামলা যেকোনো মুহূর্তে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।
অন্যদিকে, হুথিদের দাবি- তারা বিমানবন্দরের কাছে বদর ক্যাম্পে সৌদি আরবের সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা রিয়াদের উত্তরে হুথিদের ছোড়া আরো একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে। জোটের মুখপাত্র জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার ওপর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হামলাকারী লঞ্চিং প্যাডটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে, হুথিরা সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে সৃষ্টি আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনে এই লড়াই নতুন যাত্রা নিয়েছে।
লোহিত সাহরের মোচা বন্দর ও কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রিণ নিতে তাইজ প্রদেশে হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। এই ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় দেশটিতে দ্রত সেনা পাঠাতে ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক।
সূত্র : আল-জাজিরা