ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলা ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাইদ এবং বুকে আঘাত পান একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম।
এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের সভাপতি ড. মঞ্জুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল বারী ও অধ্যাপক খাইরুল ইসলামকে লাঞ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন।
জানা যায়, মঙ্গলবার দুই বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় মীমাংসার উদ্দেশ্যে দুই বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসেন প্রক্টরসহ বিভাগের শিক্ষকরা। সেখানে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মীমাংসা শেষে তারা কোলাকুলিও করেন। মীমাংসা শেষে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম অনুষদ ভবন থেকে বের হয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের বাকি শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার সময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আচমকা হামলা করেন। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হলে গাছের ডালপালা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। এতে করে রুদ্ধ হয়ে পরে পুরো ক্যাম্পাস। দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর বিচারের আশ্বাস পেয়ে প্রধান ফটক ছেড়ে যায় তারা।
আইসিটি বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আলোচনার পর তারা সমঝোতায় সম্মত হয়ে প্রক্টর অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। ওই সময় আমাদের সঙ্গে আটজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছিলেন। হামলায় আমাদের দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন শিক্ষকও আহত এবং দুইজন শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন।”
অন্যদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আলোচনা শেষে আমরা সবাই প্রক্টর অফিস থেকে নিচে আসছিলাম। সেসময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ছিল। তারা ওদের (আইসিটি) ওপর অ্যাটাক করেছে এবং সেখানে শিক্ষকরাও ছিলেন। শিক্ষকরাও এটা ট্যাকল করতে পারেননি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি ভিসি স্যারকে জানানো হয়েছে। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”