কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোয়াঙ্গো প্রদেশের কেঙ্গেতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কিকউইত থেকে রাজধানী কিনশাসার উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। পথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে কেঙ্গেতে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন পাইলট। তবে সেখানে কোনো রানওয়ে না থাকায় বিমানটি একটি আবাসিক এলাকায় গিয়ে বিধ্বস্ত হয়।
কোয়াঙ্গো প্রদেশের উপগভর্নর রেমি সাকি বোকিন্ডা জানান, জরুরি অবতরণের চেষ্টা করলেও রানওয়ে না থাকায় বিমানটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে।
কঙ্গোর সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল এফোমি একেনগে ১৪ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “বিমানে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের চেনার কোনো উপায় নেই। পাইলটের মরদেহ বিমানটির বাইরে পাওয়া গেছে।”
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুই জ্যেষ্ঠ জেনারেলের সঙ্গে সফরে থাকা সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক ছাড়াও অন্যান্য সামরিক কর্মীরা রয়েছেন।
একেনগে জানান, দুর্ঘটনার কারণ জানতে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
মধ্য আফ্রিকার বিশাল ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ ডিআর কঙ্গো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংঘাতে জর্জরিত। বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে রুয়ান্ড সংলগ্ন এলাকায় খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘধিন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ চলে আসছে।
এছাড়া গত বছর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রধান শহর দখলকারী একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও জোরালো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।