• শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

গ্যাস সংকট: ছাটাইয় আতঙ্কে শ্রমিকরা

বাণিজ্য ডেস্ক / ৭ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ না থাকলে আদেশ অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে না পারার আশঙ্কা শিল্পমালিকরা। ফলে এই প্রভাব সরাসরি কর্মীদের উপর পড়বে। এতে কর্মী ছাটাইয়ের পথে কাটবে শিল্পমালিরা। ইতিমধ্যে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় এক কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

সাভার এলাকার শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অঞ্চলে প্রায় ১২০০ কারখানা রয়েছে। পোশাক কারখানার বয়লার ও আয়রন সেকশন সচল রয়েছে এমন কারখানাগুলোতে অতিরিক্ত সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কারখানায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এই সংশ্লিষ্ট সেকশনের শ্রমিকরাও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সম্প্রতি সাভারের রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর এবং আশুলিয়ার জামগড়া, কাঠগড়া, জিরাবো, নরসিংহপুর, বেরুন, শিমুলতলা, পলাশবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, বাইপাইল ও জিরানী এলাকার বিভিন্ন কারখানায় খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

কারখানাগুলোর মধ্যে, গ্যাসনির্ভর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি কারখানায় গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের অপেক্ষায় উৎপাদন ইউনিট বন্ধ ছিল। কোথাও শ্রমিকরা কাজ শুরুর অপেক্ষায় বসে ছিলেন, আবার কোথাও সীমিত পরিসরে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঠিক কতগুলো কারখানায় সঙ্কট রয়েছে ও বন্ধ রয়েছে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি শিল্প পুলিশ ও এ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউই।

কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে গ্যাসের চাপ থাকতে হয় ১০ থেকে ১৫ পিএসআই, সেখানে বর্তমানে মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৮ পিএসআই। এতে বয়লার, জেনারেটরসহ উৎপাদন যন্ত্রপাতি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

আশুলিয়া অঞ্চলের একটি কারখানার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘‘বারবার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় বয়লার চালানো যাচ্ছে না। কাজ করা যাচ্ছে না। আয়রন সেকশনও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গেল সপ্তাহের তুলনায় গ্যাসের চাপ বাড়ায় কাজ কিছুটা সচল করা গেছে, তবে পুরোপুরি নয়।’’

অপর এক কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বিদ্যুৎ থাকলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেশিন বন্ধ থাকে, এতে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।

এদিকে ছাটাই আতঙ্কে রয়েন শ্রমিকরা। গত ৫ আগস্ট ছুটির মধ্যেই আশুলিয়ায় অবস্থিত অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন কারণে ফ্যাক্টরিতে মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। ব্যাংক ঋণসহ প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকায় ফ্যাক্টরির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ৮ আগস্ট থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাঁটাই হওয়া এক শ্রমিক বলেন, ‘‘আমি প্রায় এক বছর ধরে কারখানাটির সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলাম। হঠাৎ করেই চাকরি চলে যাওয়ায় আমি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। গ্যাস বা বিদ্যুতের সংকটের কারণে কারখানায় কাজ বন্ধ ছিল না কিংবা অতিরিক্ত চাপও ছিল না। আমরা নিয়মিত কাজ করেছি। কর্তৃপক্ষ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে ছাঁটাই সংক্রান্ত নোটিশ পাঠিয়েছে। সেই নোটিশ পেয়েছি। আরো অনেক শ্রমিক এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তাই সবার সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category