কএই দেশে ফ্যাসিবাদি হয়েছিল, এখনো ফ্যাসিবাদি হামলা চলছে বলে দাবি করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনপিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, দেশের ১৪’শ ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচার মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এখনো ফ্যাসিবাদি হামলার অনুরোপ চলছে। তবে ফ্যাসিবাদের পথে চলতে থাকলে আগামী দিনে আমাদের শুক্ত লড়াই হবে বলেও হুশিয়ারি দেন এই নেতা।
শুক্রবার রাত আটটার দিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি বাজারের গোডাউন মোড়ে এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই সনদ, গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ সংকট নিরসন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কমংসংস্থান বৃদ্ধি ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে এনসিপি হাকিমপুর উপজেলা শাখা সভার আয়োজন করে।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন,বর্তমান তরুণ তরুণী সবার বুকে আছে ওসমান হাদির আগামীর স্বপ্ন, সবার বুকে আছে ওসমান হাদির বিশ্বাসের স্বপ্ন।
উপস্থিত ছাত্র জনতা ও তরুণ তরুণীর উদ্দেশ্য বলেন, ভোটের আগে আমরা এদেশের শিক্ষা, চিকিৎসা,আলেম ওলামাদের সুরক্ষা, সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা। তাই বিএনপিকে আমরা কোন টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজদের মনোনয়ন পত্র দিতে নিষেধ করেছিলাম তারা বলেন এটা আমাদের দলের পুরনো ঐতিহ্য ছাড়তে পারবো না। আমরা বলেছি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। তারা আপনাদের ওসব দেখতে হবে না।
তিনি বলেন, আমরা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২ নম্বর লোক বসিয়ে দেই। তাই আমি বলতে চাই আগামীতে যে লড়াই হবে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মরহুমা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। এলড়াই হবে জুলাই সনদ ও গণভোট অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে, ১৪’শ ছাত্র জনতার রক্তের সাথে যারা বেইমানি করবে তাদের বিরুদ্ধে।
পদযাত্রায় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু ভারত যদি কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে বারবার এটা প্রমাণ করে যে, তারা আমাদের উপর দাদাগিরি, আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা করে। তাহলে আমরা স্পষ্ট ভাষায় ভারতকে বলতে চাই এই ধরনের প্রতিবেশীকে আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র মনে করি না।
তিনি আরও বলেন, ভারত শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আশ্রয় দেয়, আমার দেশকে ন্যায্য পানির হিস্যা বুঝিয়ে দেয় না, যারা খরার সময় পানি আটকে রাখে, বর্ষার সময় পানি ছেড়ে দিয়ে আমার লক্ষ মানুষকে হত্যার কর্মযজ্ঞ করে, তারা কোনোদিন আমাদের বন্ধু হতে পারে না। তারা কোনোদিন আমাদের প্রতিবেশী হতে পারে না। আগামীর বাংলাদেশে একটা ফেলানী হত্যা বা সীমান্ত হত্যা হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিজিবির ভাইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত রক্ষা করতে হবে বলে সবার আহবান জানান তিনি।
বিএনপির তারেক রহমানের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মা আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে দেশের জনগণ আপনাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই আগামী দিনে জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন না হলে আপনাদের ও ছুঁড়ে ফেলে দিবে এদেশের জনগণ।
সভায় দলের সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সকলে প্রত্যাশা করেছিলাম যে একটা নতুন বাংলাদেশ আমরা পাবো। যে বাংলাদেশে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। যে বাংলাদেশে মানুষ চাকরি পাবে কোনও ঘুষ ছাড়া, যে বাংলাদেশে মেধার মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই বাংলাদেশের মানুষ যে নতুন রাষ্ট্রটা গড়ার জন্য ভোট দিয়েছিল, সেই ভোটটাকেই এখন আর কার্যকর করা হচ্ছে না। আমরা দুইটা ভোট দিয়েছি। সরকার গঠনের ভোট, গণভোট। তারা সরকার গঠন করেছে ঠিকই, কিন্তু গণভোট আর মানে না। এই কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন আশাহত হয়ে পড়েছে।
পদযাত্রায় এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা.আব্দুল আহাদ,উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ আমিনুল ইসলাম, এনসিপির স্থানীয় নেতা সহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।