জুয়া, মাদক, কিশোর গ্যাং, ভেজাল পণ্যের সিন্ডিকেট, মহাসড়কে ডাকাতি, হানি ট্র্যাপ, জালনোট, ভিসা ও স্ট্যাম্প জালিয়াতিসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, আধুনিক ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে আয়োজিত জরুরি দিকনির্দেশনামূলক ও মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, টঙ্গীসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে ভেজাল মসলা ও নকল ওষুধের বিস্তার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে ছদ্মবেশে গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরো জানানো হয়, দূরপাল্লার নাইট কোচের যাত্রাবিরতির স্থান, মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিবিড় নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা, পর্নোগ্রাফি, হানি ট্র্যাপ, ব্ল্যাকমেইলিং, জালনোট, স্ট্যাম্প ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে তথ্যনির্ভর গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরদের অঙ্গহানি করে জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার মতো অমানবিক অপরাধে জড়িত সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমন আইন, জুয়া আইনসহ সম্প্রতি সংস্কার করা বিভিন্ন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, “মহানগরীর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গাজীপুরকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে ডিবি পুলিশকে আরো বেশি প্রো-অ্যাক্টিভ হতে হবে।”
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনসহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন