উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ু চাপের প্রভাবে পকূলীয় অঞ্চল দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস। পাশাপাশি নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) আবহাওয়া অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এক সপ্তাহ ধরে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলার কলাপাড়ায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস।
টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নিচু এলাকার অনেক পরিবার। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক এবং নিচু স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। উত্তাল রয়েছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা, ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে পটুয়াখালীর পায়রাসহ দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকে দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সব মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপাদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালীর লঞ্চঘাট এলাকার রিকশাচালক রিপন সিকদার বলেন, “গত ৭ দিন ধরে আমাদের এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় খুব জোরে বৃষ্টি হয়। এ কারণে বাজারে মানুষের আনাগোনা অনেকটা কম থাকে। ফলে আমাদের আয় অনেকটা কমে গেছে।”
কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের সালাম ফকির বলেন, “এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে আমাদের এলাকার সব আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে আছে। অনেকের ঘরের উঠনে পানি উঠে গেছে। এখন জমিতে বীজ ধান ফালানোর সময়। পানি না কমলে আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।”
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় রবিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর হয়তো আরো দুই-একদিন গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। যে কোন সময় ঝড়ো হওয়া বয়ে যেতে পারে।”