চলতি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে বেশ দাপটের সঙ্গেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। তবে রাউন্ড অব-৩২ এর ম্যাচে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা কেপ ভার্দেকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি। আলবিসেলেস্তে কোচের ধারণা, আফ্রিকার এই দলটি আর্জেন্টিনার জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গত রোববার (২৮ জুন) জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের সহজ জয়ে ‘জে’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবে পরের রাউন্ডে পা রাখে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এর আগের ম্যাচগুলোতেও তাদের জয় ছিল দেখার মতো; আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়েছিল তারা। এদিকে তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৬ বার বল পাঠিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
তবে গ্রুপ পর্বের দাপুটে পারফরম্যান্সের পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ আর্জেন্টিনা। কারণ নকআউটের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে অভিষেক বিশ্বকাপেই চমক দেখিয়েছে। তারা স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে, আবার উরুগুয়ের বিপক্ষেও ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ করেছে।
এ কারণে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি যদি বলি তারা কঠিন প্রতিপক্ষ নয়, তাহলে সেটা মিথ্যা হবে। অনেকের কাছে হয়তো এমন মনে হতে পারে না, কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি তারা ভালো দল এবং আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’
নকআউট পর্বের সম্ভাব্য পথ বিবেচনায় আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের আগে আর কোনো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হবে না। তবে সেটি নিয়ে ভাবতে রাজি নন খেলোয়াড়রা।
উইঙ্গার জুলিয়ানো সিমিওনে বলেন, ‘আমরা সবসময় নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিই। প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন। আমাদের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের সেরা অস্ত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ক্ষতি করা।’
মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রুপ পর্বের সাফল্য পেছনে ফেলে এখন পুরো মনোযোগ কেপ ভার্দে ম্যাচে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম লক্ষ্য অর্জন করেছি, অর্থাৎ পরের রাউন্ডে উঠেছি। কিন্তু আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই। আগামীকাল থেকেই কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু হবে।’
সোমবার কানসাস সিটিতে অনুশীলনে ফিরবে আর্জেন্টিনা। আগামী ৩ জুলাই মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ষোলো নিশ্চিতের মিশনে লড়াইয়ে নামবে স্কালোনির দল।
এদিকে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার পাঁচ ফুটবলারের বিশ্বকাপ অভিষেক। জুলিয়ানো সিমিওনে, জিওভানি লো সেলসো, ভ্যালেন্তিন বার্কো, মার্কোস সেনেসি ও হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলেন। দের মধ্যে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল লো সেলসোর। ২০১৮ বিশ্বকাপ দলে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। আর ২০২২ বিশ্বকাপের আগে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়েও চোটের কারণে কাতার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান।
অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই ১৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে স্বপ্নপূরণ করেন এই মিডফিল্ডার। আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় লো সেলসো বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তের জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। অসংখ্যবার স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু বাস্তবতা আমার কল্পনার চেয়েও সুন্দর। কঠোর পরিশ্রমের ফল একদিন না একদিন মিলেই যায়।’
শিষ্যের এই প্রত্যাবর্তনে খুশি স্কালোনিও। আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘সে প্রথম দিন থেকেই আমাদের সঙ্গে আছে। অসাধারণ একজন ছেলে। নিষ্ঠুরভাবে সে আগের বিশ্বকাপ মিস করেছিল। আজ তার জন্য আমরা সবাই খুব খুশি। কারণ সে আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।’