অতিরিক্ত পানির চাপ সামাল দিতে লালমনিরহাটের ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজেরও ৪৪টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। এর প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টার পরিমাপ অনুযায়ী, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৭ সেন্টিমিটার ওপরে।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিন্ধুর্না ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার ও কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এবং সদর উপজেলার কালমাটি এলাকাসহ তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। পানি আরও বাড়লে বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে গত দুই সপ্তাহে কয়েক দফা বন্যার কারণে কৃষকরা আগেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজি, বাদাম, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারতের উজানের কয়েকটি প্রদেশে অনবরত ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টা তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে অথবা এর আশপাশে অবস্থান করতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।