৪০ সেকেন্ড এর ব্যবধানে শক্তিশালী দুটি কম্পনে ভেনেজুয়েলা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের ভয়াবহতা এতো বেশি ছিলো যে, দেশটির একটি শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে লাশে আর আহত ব্যাক্তিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। যত সময় যাচ্ছে, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তবে হতাহত কোথায় গিয়ে থামবে, এখনও আন্দাজ করতে পারছেন না কেউ। কারণ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ১১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী হাতাহতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কারলোস আলভ্যারাডো জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অনেক মানুষ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে অন্তত ২৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যারা হয় আগেই মারা গিয়েছিলেন, নয়তো হাসপাতালে আনার পথেই প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলায় অর্থ ও ত্রাণ পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। এতে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
সিইপিআরের আন্তর্জাতিক নীতি পরিচালক অ্যালেক্স মেইন বলেন, আগের দুর্যোগগুলোর সময়ও আমরা দেখেছি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা সরকারকে অবশ্যই ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ গ্রহণ, বণ্টন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে। বর্তমান মার্কিন ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা এই ত্রাণ কার্যক্রমকে দুর্বল করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা