বয়স ৪১ পেরিয়ে গেলেও মাঠে তাঁর উপস্থিতি এখনো তরুণদের মতোই প্রাণবন্ত। সময়কে যেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আবারও নতুন ইতিহাস গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাঁর জোড়া গোলের দিনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গোল উৎসবে মেতে ওঠে পর্তুগাল। প্রতিপক্ষকে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে দাপুটে জয় তুলে নেয় ইউরোপের দলটি।
এই ম্যাচে দুই গোল করে একাধিক অনন্য কীর্তির মালিক হয়েছেন ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সী রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছেন তিনি। এ তালিকায় তাঁর সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি, যিনি পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন রোনালদোর দখলে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর থেকে ৯ গোল নিয়ে শীর্ষে ছিলেন কিংবদন্তি ইউসেবিও। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গিয়ে সেই রেকর্ড ভেঙেছেন সিআর সেভেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতাও এখন তিনি। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা, যিনি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর বয়সে গোল করেছিলেন।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেজ এবং রোনালদো সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। তবে ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় পর্তুগাল। জোয়াও ক্যানসেলোর বাড়ানো বলে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান রোনালদো।
১৫তম মিনিটে পেদ্রো নেতোকে বক্সের বাইরে ফাউল করলে ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, তখন কৌশলে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে বল ছেড়ে দেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান নুনো মেন্ডেস।
২৯তম মিনিটে আজিজন গানিয়েভ উজবেকিস্তানের হয়ে গোল করলেও ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে ক্যানসেলোর ওপর ফাউল হয়েছিল। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৩-০ করেন রোনালদো। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েই বিরতিতে যায় পর্তুগাল।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের তীব্রতা ধরে রাখে পর্তুগিজরা। কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন উজবেক গোলরক্ষক আব্দুভোহিদ নেমাতোভ। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
৭২তম মিনিটে রোনালদোর শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন উজবেক গোলরক্ষক। এতে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন পর্তুগাল অধিনায়ক। এরপর ৮৪ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেজ একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
তবে ৮৭তম মিনিটে আর ভুল হয়নি। ডান প্রান্ত থেকে নেলসন সেমেডোর ক্রসে রোনালদো বল স্পর্শ করতে না পারলেও তা গিয়ে পড়ে বদলি নামা রাফায়েল লিওর সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের পঞ্চম গোলটি করেন তিনি।
যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে রোনালদোর সামনে হ্যাটট্রিক পূরণের আরেকটি সুযোগ এসেছিল। তবে সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। তবুও তাঁর জোড়া গোলের রাতে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।