চট্রগ্রামে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তায় তার ভাইয়ের করা মামলায় এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলায় সোহেল হোসেন সরকার নামে পুলিশের এক সোর্সকে আসামি করা হলেও তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসে হামলা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় দুই বছর আগের হওয়া এক মামলায়। এছাড়া মামলা দায়েরের পর পুলিশের অভিযুক্ত দুই সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রশ্ন উঠেছে ফৌজদারি মামলার অগ্রগতি নিয়ে।
সোহেল হোসেনকে গ্রেফতারের বিষয়ে আদালতের জিআরও শাখা ও হাজতখানার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খুলশী থানায় করা একটি মামলায় সোহেলকে গ্রেফতার দেখানো হয় (মামলা নম্বর-৬)। গত শনিবার তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে খুলশী থানা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। পুলিশের করা ওই মামলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওই মামলায় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাঈম হাসানের ভাই মামলার বাদী সাব্বির আলম। তিনি বলেন, মামলায় নাম থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আসামিদের আইনের আওতায় আনা না হলে বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে খুলশী প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।