নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আভাস দিয়েছে গুগল। বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই সাবস্ক্রিপশন সেবার মূল্য কমানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধাও বাড়িয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, তাদের ‘গুগল এআই প্লাস’ সেবার মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি ৭ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্যাকেজে তথ্য সংরক্ষণের সীমা ২০০ গিগাবাইট থেকে বাড়িয়ে ৪০০ গিগাবাইট করা হয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার বাজারে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের মূল্য প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। তবে গুগলের এই পদক্ষেপ সেই চিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে চালু হওয়া গুগল এআই প্লাস ছিল যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের সবচেয়ে সাশ্রয়ী এআই সাবস্ক্রিপশন সেবা। মূলত সাধারণ ব্যবহারকারী ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখেই এটি বাজারে আনা হয়।
এই সেবার আওতায় ব্যবহারকারীরা গুগলের এআই মডেল জেমিনির বিভিন্ন সুবিধা, ভিডিও তৈরির টুল, গবেষণায় সহায়তা এবং লেখালেখি সংশ্লিষ্ট নানা ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। গুগলের পণ্য বিভাগের কর্মকর্তা বিকাশ কানসাল জানিয়েছেন, বাড়তি স্টোরেজ সুবিধা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেবাগুলো ধীরে ধীরে সাধারণ ভোক্তাপণ্যের রূপ নিচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু উন্নত প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে কম খরচে সহজে ব্যবহারযোগ্য সেবা দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখার কৌশল নিচ্ছে।
ভেঞ্চার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গুডওয়াটার ক্যাপিটালের সহপ্রতিষ্ঠাতা চি-হুয়া চিয়েন বলেন, প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তনের সময় অবকাঠামোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন মূল্য প্রতিযোগিতা প্রায়ই দেখা যায়। তার ধারণা, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারেও একই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ ব্যবহারকারী কোনো সেবার পেছনে কোন প্রযুক্তি কাজ করছে, তা নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নন। তারা মূলত কম খরচে উন্নত ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করেন।
এর আগে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তুলনামূলক কম মূল্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা চালু করেছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। গত বছর ওপেনএআই ভারতে স্বল্পমূল্যের চ্যাটজিপিটি সেবা চালু করার পর গুগলও একই ধরনের উদ্যোগ নেয়।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও সেই কৌশল বাস্তবায়ন করছে গুগল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচে বেশি সুবিধা দিয়ে বৃহৎ ব্যবহারকারীভিত্তি গড়ে তোলাই এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানও এআই খাতে গুগলের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে। তবে গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে পুরো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের ব্যবসায়িক কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে।