আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে নারী উদ্যোক্তাদের টেকসই উন্নয়ন, ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আজ রাজধানীতে উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ওয়েব)-এর উদ্যোগে প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ মে (শনিবার) গুলশানের হোটেল লেকশোর-এ “একসেলেরাটিং ওমেন’স এন্ট্রেপ্রেনিউরশিপ ফর ইনক্লুসিভে গ্রোথ: রেকমেন্ডেশন রিপোর্ট শেয়ারিং ফর ন্যাশনাল বাজেট ২৬-২৭” শীর্ষক এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল হাই সরকার এবং জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য হেলেন জেরিন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ওয়েব-এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “নারী উদ্যোক্তারা যেসব নীতি উপস্থাপন করেন, তা শুধু আলোচনা করলে হবে না, বাস্তবায়নও করতে হবে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় আপনারা দেখেছেন, কীভাবে ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন হয়েছে এবং কত ভয়ংকরভাবে আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পেয়েছে। আমাদের সরকারের সময়ও এমন সংকট দেখা গিয়েছিল। তখন আমাদের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেখিয়েছেন, সংকটকে কীভাবে সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হয়। আবার মরহুমা খালেদা জিয়ার সময় কৃষকদের ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছিল।
তেমনি বর্তমান সরকার মনে করে, নারী-বান্ধব হতে হবে এবং নারীর মাধ্যমেই অগ্রগতি পরিমাপ করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় সার্বজনীন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে, যা শুধু এশিয়ায় নয়, বরং পুরো বিশ্বেই প্রথম। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সহজ লাইসেন্স প্রক্রিয়া ও সহজ এসএমই ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করবে। কারণ সরকার মনে করে, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্পই বাংলাদেশের প্রাণ। এদের সাফল্য মানেই বাংলাদেশের সাফল্য।”
ওয়েব সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল বলেন, “উদ্যোক্তা হওয়ার প্রথম শর্তই হলো পুঁজি। আর নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হচ্ছে এই অর্থসংকট। তাই ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে—নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি যেন আরও সহানুভূতিশীল ও সহজ আচরণ করা হয়। অনেক নারী স্বভাবগতভাবেই কম কথা বলেন, ফলে নিজেদের প্রয়োজন বা পরিকল্পনা সবসময় স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন না। কিন্তু একটু আন্তরিকতা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাংকগুলো যদি এই সহায়তার জায়গাটি তৈরি করে, তাহলে দেশ আরও অনেক নতুন ও সফল নারী উদ্যোক্তা পাবে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন ওয়েব-এর নির্বাহী পরিচালক মাহিউল কাদির।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. নাদিরা সুলতানা, বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, সাজেদা ফাউন্ডেশনের সিইও জাহিদা ফিজা কবির, এসএমই ফাউন্ডেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম হাসান সাত্তার এবং ইউএন গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শাহামিন এস. জামান।
সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়াল। সংলাপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং ওয়েব-এর বিপুল সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।