কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দেশের প্রথম নারী পাবলিক প্রসিকিউটর (সাবেক পিপি) অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতা-কর্মী অংশ নেন।
বুধবার রাতে কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংবর্ধিত অতিথি এমপি শামীম আরা স্বপ্নাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শামীম আরা স্বপ্না বলেন, “দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছি। কখনো ঘরে বসে থাকিনি। আপনারা মাঠে ছিলেন, আমিও নেতৃত্ব দিয়েছি। সেই শ্রমের মূল্যায়ন করেছেন আমাদের প্রিয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ।”
তিনি বলেন, “আমার একটি ফোনে চকরিয়ায় মিছিল বের হয়েছিল, সেখানে আমার ছয় ভাই প্রাণ দিয়েছেন। আমাদের নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল। ৬১ দিন তাঁকে কবরের মতো জায়গায় আটকে রাখা হয়। পরে তাঁকে শিলংয়ে ফেলে আসা হয়েছিল।”
শামীম আরা স্বপ্না আরও বলেন, “ছাব্বিশের আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আজ ক্ষমতায় এসেছি। কিন্তু ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ বা বৈষম্য থাকা চলবে না। আমি আপনাদের বড় বোন ও পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানাই।”
সংবর্ধনার আয়োজন করায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজের অর্থায়নে এত বড় আয়োজন করে আমাকে সম্মানিত করায় আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, “কক্সবাজারকে সবাই বিএনপির দূর্গ বলে। এর অন্যতম কারণ, এখানে সালাহউদ্দিন আহমদের মতো একজন নেতা রয়েছেন।”
তিনি বলেন, “সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক।”
সহিদুজ্জামান আরও বলেন, “তাঁর নেতৃত্বেই কক্সবাজার জেলায় চারজন সংসদ সদস্য পেয়েছি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি আজ শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাকে এমপি হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের।”
তিনি রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান ও শিষ্টাচার বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “যিনি সম্মানের যোগ্য, তাঁকে সম্মান দিতে হবে। সিনিয়রদের মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতিতে আরও বাড়াতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সহ-সভাপতি আখতারুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ বোখারী, কক্সবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আকতার চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।