সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি ও হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন লাখো মুসল্লি।
হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, আরাফাতে অবস্থান করাই হজের প্রধান রুকন। হাজিরা সারাদিন ইবাদত, দোয়া, জিকির ও তওবা-ইস্তিগফারে কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।
দুপুরে ঐতিহাসিক মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সেই খুতবা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন করেন এবং শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করেন।
আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনায় বড় জামারায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর হাজিরা পশু কুরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিবহণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে ছায়া, পানির ফোয়ারা এবং বিশেষ সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।