রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে। তবে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়ায় তিনি সেই প্রলোভনে পা দেননি।
শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মনোহরদী পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দুই শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে। কিন্তু টাকার প্রতি কোনো লোভ হয়নি আমার। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আপনি যা করবেন, আমি পূর্ণ সমর্থন দেব। তাই আমি তাদের লাইসেন্স বাতিল করেছি।”
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জামায়াতের লোকজন বলছে, এটা নাকি অন্যায় হয়েছে। কয়েকটা টাকা কম না নিয়ে তারা মানুষকে বোকা বানিয়েছে। ছয়টি নবজাতকের মৃত্যুর পরও তারা হাসপাতালটির পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। তারা যা-ই বলুক না কেন, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এই একটি শাস্তিই দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।”
সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এখন সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেবেন। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজন হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এ ছাড়া চীনের সহযোগিতায় তিন হাজার শয্যাবিশিষ্ট দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব হাসপাতালে নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার (দোলন), মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা এবং পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল হান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।