শায়ন্তিকা ব্যানার্জিকি আবার অভিনয়ে ফিরছেন? সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এমন প্রশ্নই এখন ঘুরছে কলকাতার চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার বরাহনগর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন অভিনেত্রী ও তৃণমূল নেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফল প্রকাশের পর কিছুদিন আড়ালে থাকার পর এবার নিজের মানসিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন জ্বরে ভোগার পর সুস্থ হয়ে সায়ন্তিকা বলেন, “হার মানেই তো জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।” যদিও এখনো সরাসরি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেননি তিনি, তবে তার বক্তব্যে স্পষ্ট—এই মুহূর্তে তিনি আত্মসমালোচনা ও নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সায়ন্তিকা বলেন, “একটা খারাপ লাগা তো থাকেই। হয়তো মানুষের আমার কাছে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। আমিই হয়তো সেই আশা পূরণ করতে পারিনি। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি।” বরাহনগরের নতুন বিধায়ক সাজাল ঘোষ কে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তার ভাষায়, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত।
এর আগেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছিলেন সায়ন্তিকা। তবে এবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখছেন তিনি। কারণ, আগেরবার মমতা ব্যানার্জি বিপুল জয় নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও এবার রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে।
গত কয়েক বছর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় নিজের শরীরচর্চা ও অভিনয়জীবন থেকে দূরে ছিলেন এই অভিনেত্রী। এখন আবার অভিনয়ে মনোযোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। সায়ন্তিকার কথায়, “আমার মূল পেশা অভিনয়। এখন আবার সেটাতেই মন দিতে চাই। নিজেকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে চাই এবং ক্যামেরার সামনে ফেরার জন্য তৈরি হতে চাই।”
নির্বাচনের ফলের পর পরিচালক ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী ও রাজনীতি থেকে কিছুটা সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইভাবে দেভ ও রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় না থাকার কথা জানিয়েছেন। এর আগে মিমি চক্রবর্তী ও নুসরাত জাহানধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। এবার সায়ন্তিকাও কি সেই পথেই হাঁটবেন—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে চলচ্চিত্রপাড়ায়।