• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

শিক্ষকদের ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে বিগত সরকার

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৫০ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার ফান্ড থেকে গত সরকারের সময় ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের টাকা সরিয়ে ক্ষেলাপি ঋণে আক্রান্ত বিভিন্ন ব্যাংকে ৫৫৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংকগুলো থেকে এই টাকার পুরোপুরি ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিযোগ করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই দিনে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অতীতে এই দিনটি হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে উদ্‌যাপন করা হলেও আজকের দিনে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ সারাদেশের অবসরপ্রাপ্ত ৩৬ হাজার ১১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং প্রায় ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে আরও কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয় ছিল। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব কাজ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আশা করছেন, পরবর্তী ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অবসর ও কল্যাণ ভাতার বাকি অর্থ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫৫৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে দেওয়া হয়েছিল। যেসব ব্যাংকে এই অর্থ রাখা হয়েছে, সেখান থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে সরকারি ব্যাংকগুলোতেও এই খাতের কিছু অর্থ রয়েছে এবং সেগুলো ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করা ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশ চাঁদ, পাশাপাশি সরকার প্রদত্ত বন্ডের অর্থ মিলিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি সম্পদভিত্তি তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগীকে কল্যাণ ও অবসর ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বছর বাকি অর্থও পরিশোধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষকদের অবদানের বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন। একজন শিক্ষক তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার পেছনে ব্যয় করেন। কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় তাঁদের যথাযথ সম্মান জানানো এবং বিদায় সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category