• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

ইটভাটার থাবায় নদী ভাঙনের মুখে ৩ শতাধিক পরিবার

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : / ৯৯ Time View
Update : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

নদীর বুক জেগে ওঠা চরই ছিল নদীতীরের মানুষের প্রাকৃতিক সুরক্ষা। ইটভাটার মাটির জন্য ভেকু মেশিনের আঘাতে সেই চরে তৈরি হচ্ছে বড় বড় গর্ত ও খাল।এতে বদলাচ্ছে নদীর গতিপথ, বাড়ছে স্রোতের চাপ। ফলে হুমকিতে পড়েছে নদীপর চরের গড়ে উঠা বসতঘর, ফসলি জমি ও মহাশ্মশানের।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুচি নদীর তীরবর্তী এলাকায় নদীর ভরাটকৃত চর থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহের এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাটি কাটার কারণে কাঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৯টি পরিবারসহ আশপাশের তিন শতাধিক পরিবার এখন নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমি এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি মহাশ্মশান।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নদীর চর কাটা বন্ধ করে ভেকু মেশিন অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নদীতীরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে স্থায়ী সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভেকুর আঘাতে চরে তৈরি হচ্ছে গর্ত

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানগুচি নদীর তীরবর্তী মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ১৯টি পরিবার বসবাস করছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এমবিআই ব্রিকস ইটভাটার মালিক শাহজাহান শেখের শ্রমিকরা ভেকু মেশিন দিয়ে নদীর ভরাট হওয়া চর থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সেখানে বড় বড় গর্ত ও খালের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের সময় নদীর পানি এসব গর্ত দিয়ে প্রবল বেগে ঢুকে পড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের সীমানায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর জাহান বিবি, গোলবানু বেগম, মাইনূর বেগম ও দলিল শেখ বলেন, এর আগেও নদীর চর থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তারা। সম্প্রতি আবারও ভেকু দিয়ে চর কেটে খাল তৈরি করায় জোয়ারের পানির চাপ বেড়েছে। এতে তাদের ঘরবাড়ি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে বসতভিটা হারোনার পাশাপাশি ঝুঁকিতে ফসলি জমি ও মহাশ্মশান নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে ইটভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। ফলন্ত গাছের ফল ঝরে পড়ছে এবং শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে এমবিআই ব্রিকস ইটভাটার স্বত্বাধিকারী শাহজাহান শেখ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার পর ভাটার শ্রমিকদের দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হলে তিনি নিজেই তা দেখবেন বলেও জানান তিনি।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, কাঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাছের ইটভাটায় নদীর চর থেকে মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়ার পরই তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category