জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফ্রিডম পার্টির মতো হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতায় এনসিপি বর্তমান অবস্থানে দাঁড়িয়ে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদের ‘জুলাই কারাবন্দীদের মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধৈর্য ধরে দলকে সংগঠিত রেখেছেন। এ কারণেই জুলাই-পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি মহলে বিএনপির প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।” তার ভাষায়, একটি সংগঠিত রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার কারণেই মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
নুরুল হক নুর দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এনসিপি এতটুকুও দাঁড়াতে পারত না। বিভিন্ন দল থেকে প্রত্যাখ্যাত লোকজনকে একত্র করে দল গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে কোনো দল দাঁড়ায় না। এটাও দাঁড়াবে না। এটার পরিণতি হবে ফ্রিডম পার্টির মতো।”
তিনি অভিযোগ করেন, “এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ে জামায়াতের প্রভাব রয়েছে এবং কৌশলগতভাবে বিভিন্ন দলে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী।”
নুরুল হক নুর বলেন, “বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকারের মেয়াদ মাত্র ছয় মাস হলেও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যাতে জনরোষ সৃষ্টি হওয়ার কথা। তবুও রাজনৈতিক স্বার্থে সরকারকে চাপে রাখতে কিছু দল কর্মসূচি দিচ্ছে।”
নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এনসিপি। এতে গণঅভ্যুত্থানের বৃহত্তর ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ড. ইউনূসের প্রতিও মানুষের আস্থা কমেছে।
তার অভিযোগ, এনসিপি ও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং বিদেশি মহলের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।