• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: / ৭ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

নেত্রকোনায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় রিপন মিয়াকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য জানান নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদি হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি রিপন মিয়া। ঘটনার পর আয়োজিত সালিশ দরবারে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দরবারে কী আলোচনা হয়েছিল, তা যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। এরপর তাকে আটক করে তিন নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। সেই সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাতব্বর দাবি করেন, কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এবং রিপন তা স্বীকার করায় সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে কিশোরীর ভবিষ্যৎ ও বিয়ের খরচ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা বসতভিটা বাজেয়াপ্ত এবং সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় অধিবাসীদের একাংশের অভিযোগ, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিলো। ভুক্তভোগী পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় তারা শুরুতে আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয় মাতব্বরদের শরণাপন্ন হয়েছিল।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপন মিয়ার স্ত্রী। তার দাবি, রিপনকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। একটি গাছের নিচে ওই কিশোরীর সঙ্গে সামান্য সময় কথা বলাকে কেন্দ্র করে অন্যায়ভাবে তার স্বামীকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, দায়ের করা ধর্ষণ মামলার তদন্তের পাশাপাশি অবৈধ সালিশ বৈঠকের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category