বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তি এই দলকে পরাজিত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবুর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের জন্য দল একটি বৃহৎ পরিবার। অনেক সময় নিজের পরিবারের চেয়েও বেশি সময় আমরা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাটাই। রাজনৈতিক দলের মূল শক্তি কোনো নেতা নয়, কর্মীরাই একটি দলকে টিকিয়ে রাখে, এগিয়ে নিয়ে যায়। আজ একজন সহযোদ্ধার স্মরণসভায় এত নেতাকর্মীর উপস্থিতি সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। এজন্য আমি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি বলেন, “প্রায় ১৯ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। একটি দল যখন দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট সহ্য করতে হয় সেই দলের কর্মীদের। বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেই কঠিন সময় পার করেছেন। আজ সেই দল জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এখনো বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষ করে যারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যাদের ভূমিকা ইতিহাসে বিতর্কিত, তারা বিভিন্নভাবে বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। আমি তাদের বলতে চাই, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বর্ণের মতো খাঁটি এবং ইস্পাতের মতো দৃঢ় হয়ে উঠেছেন। বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিরই এই দলকে পরাজিত করার ক্ষমতা নেই।”
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “করোনা মহামারির সময় আমরা সবাই ঘরে বন্দি ছিলাম। একদিন জানতে পারলাম, আমাদের প্রিয় সহযোদ্ধা শফিউল বারী বাবুও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেদিন আমাদের একটি জুম মিটিং ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। শফিউল বারী বাবুও প্রথম দিকে মিটিংয়ে ছিলেন, পরে আর থাকলেন না। তখন আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিকে ফোন করে জানতে পারি, বাবুর শারীরিক অবস্থা খারাপ।”
তিনি বলেন, “সেই সময় করোনা মানেই ছিল এক ভয়াবহ আতঙ্ক। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে কেউ যেতে চাইত না, অনেকে খোঁজও নিত না। মানুষ নিজেকে ভীষণ একা অনুভব করত। তখন সবার মনেই একটি ভয় কাজ করত- হয়তো আর বেশিদিন বাঁচা হবে না।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালে নেওয়ার আগের দিন ভিডিও কলে বাবুর সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি খুব আস্তে আস্তে কথা বলছিলেন। জানতে চাইলে বললেন, শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। আমি তখন তাকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করি। পরদিন খবর পেলাম তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর এক-দুই দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু সংবাদ শুনি।”
তিনি বলেন, “কিছু মৃত্যু মানুষ সহজে মেনে নিতে পারে, আবার কিছু মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শফিউল বারী বাবুর মৃত্যু ছিল তেমনই একটি ঘটনা। আমাদের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মী কেউই এই মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি। আজকের এই দিনে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন শফিউল বারী বাবুর সব গুনাহ ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।”
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূইয়া। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথিকা বিনতে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ অন্যরা।