দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীলদের মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশনে একের পর এক দেশবিরোধী সর্বনাশা বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর পরামর্শে রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় হাটছে সরকার।
মুজিবনগর সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ও কমিউনিস্ট সাবেক সভাপতিকমরেড মণি সিংহের ১২৫তম জয়ন্তীত উপক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি সূত্রাপুর থানা কমিটির সভাপতি বিকাশ সাহা, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী খান, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা আসলাম খান, সাবেক ছাত্রনেতা সামসুল আলম প্রমুখ।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে আজ চরম সংকট চলমান। অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রেসক্রিপশনে একের পর এক দেশবিরোধী সর্বনাশা বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর পরামর্শে রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় হাটছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে চার কোটি কর্মক্ষম মানুষ বেকার, ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী ও দক্ষিণপন্থীদের উত্থান ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে, কিন্তু সরকারের টনক নড়ছে না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা নাজুক অবস্থায়। তাই আজ কমরেড মণি সিংহের সাম্যবাদী আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন অনুসরণ করে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও শোষণ-বঞ্চনার মূল কারিগর সাম্রাজ্যবাদ,পুঁজিবাদ এবং তাদের সৃষ্ট মৌলবাদ, লুটেরা ব্যবসায়ী, লুটেরা আমলা এবং লুটেরা রাজনীতির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের মুক্তি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিকাশ সাহা বলেন, কমরেড মণি সিংহ কিশোর বয়সে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে যুক্ত হন। তরুণ বয়সে তিনি কলকাতার মেটিয়াবুরুজে বস্ত্রকল শ্রমিকদের প্রিয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন এবং ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের পশিাপাশি মানুষের মুক্তির জন্য মার্কসবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবিচল ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলন গড়ে ওঠে। কমরেড মণি সিংহ ছিলেন টঙ্ক আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা।