• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট প্রতিনিধি: / ৩৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
ঝুঁকি নিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক পার হচ্ছেন পথচারী। ছবি ইউনাইটেড নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

খুলনাশিল্পাঞ্চলের রূপসা উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন প্রাণসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ। দেড় যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বেহাল অবস্থা। পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় খানাখন্দ। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের। বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জনাতে চাইলে ইউনাইটেড নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে রূপসা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদা বলেন, সড়কটি আম্পান পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। জরুরি সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রাক্কলন ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুই পাশে ১৮টি হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, বরফকল, বালুর বেডসহ বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহনে ভারী যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো কার্যকর সংস্কার হয়নি। ফলে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাহরা সুপার স্টোরের নির্বাহী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, বহু বছর ধরে সড়কটির কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মাছ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিংড়ি শিল্পের অনেক প্রতিষ্ঠান এ সড়কের পাশে অবস্থিত। দ্রুত সড়ক সংস্কার হলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সবাই উপকৃত হবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ সড়ক দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিন মাহমুদ বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নৈহাটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইলিয়াজ হোসেন বলেন, ড্রেনেজ সমস্যার কারণে বৃষ্টির পানি জমে সড়কের ক্ষতি বাড়ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভারী ট্রাক চলাচলের কারণেও রাস্তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। প্রাথমিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category