• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন
সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন অবসরপ্রাপ্তরা

পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে ধোঁয়াশা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ Time View
Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের নোটিফিকেসন নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন অথবা বছর শুরু হলেও গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়নি। অথচ এই পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে। এই নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিন কাটছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্নতায় আছেন অবসরপ্রাপ্তরা। কেননা তারা সরকারের সাথে এখন আর সরাসরি যুক্ত নন। তাই সরাসরি কোন তথ্য পান না। নির্ভর করতে হয় গণমাধ্যমের উপর। ফলে এই স্কেলের আপডেট তথ্য জানতে বার বার ফোন করেন গণমাধ্যম কর্মীদের।

জানা গেছে, এরই মধ্যে সরকার নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে বেতন বৃদ্ধির ধরন, কত ধাপে বাস্তবায়ন হবে, কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে এবং কবে গেজেট প্রকাশ হবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে।

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতাদের মতে, বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাসিক বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্রাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বেসিক বেতনকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে কার্যকর করতে গেলে পুরো সফটওয়্যার কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, “২০১৫ সালের পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি করা হতো। তখন সার্ভিস বুক ও সংশ্লিষ্ট নথিতে হাতে বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু এখন সবকিছু সফটওয়্যারনির্ভর। যদি প্রথম ধাপে ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক দেওয়া হয় এবং পরে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করা হয়, তাহলে দুই দফায় পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে এ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল।”

তার মতে, ধাপে ধাপে বেসিক কার্যকর করলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে প্রশাসনিক কাজের চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি ভুল-ত্র“টি ও জটিলতার ঝুঁকিও বাড়বে। বিশেষ করে পদোন্নতি, টাইম স্কেল, নির্বাচন গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিআরএল) শেষে চাকরি ছাড়তে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চাকরি শেষে একজন কর্মচারীর গ্রাচুইটি, পেনশন, ছুটির নগদায়নসহ সব আর্থিক সুবিধা এককালীন হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেতন কাঠামো যদি ধাপে ধাপে কার্যকর হয়, তাহলে ওই হিসাব নির্ধারণ জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আব্দুল মালেক বলেন, “ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা দুই বা তিন ভাগে পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে কেউ অবসরে যাওয়ার আগে আংশিক বেতন বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তী ধাপের সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এতে বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।”

তিনি বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছেন, সরকার চাইলে পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত। পরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা দ্বিতীয় ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও তাদের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে কোনো জটিলতায় পড়বেন না।

সরকারের অবস্থান কী?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, “ইশতেহারে বলা হয়েছিল যথাসময়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। শুধু জানিয়েছেন, “পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।”

একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর করা হবে না। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে। পরে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা হবে। তবে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে কিংবা বেতন বৃদ্ধির হার কত হবেএ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বাজেট বক্তৃতায় ছিল ১ জুলাইয়ের ঘোষণা

নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, “সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয়।

গেজেট প্রকাশ কবে?

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা শেষে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পে-স্কেলের কাঠামো, বাস্তবায়নের ধাপ, আর্থিক প্রভাব এবং সফটওয়্যার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত গেজেট জারি করা হবে।

তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, গেজেট কিছুটা দেরিতে প্রকাশ হলেও কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে গণনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারা বকেয়াসহ বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।

আগের কমিশনের সুপারিশ কী ছিল?
২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category