চমর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যয়নরত ও ইন্টার্নশিপে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় ও আইনি জটিলতায় পেশাগত ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মুখেন পড়েন তারা। সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এখনো কোনো সমাধান পাননি তারা। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পর এবার স্বাস্থ্য সচিবের সাক্ষাৎ পেতে সচিবালয়ে গেলেও তার দেখা পাননি ভুক্তভোগী বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি দল। তবে এ জটিলতা দ্রুত কাটবে এবং কর্তৃপক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করবে বলে এখনো আশাবাদী তারা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে সচিবালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা জানান।
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থী বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আমাদের ভবিষ্যৎ ও পেশাগত জীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করা হয়, সেই মেডিকেল কলেজের হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হয়। অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে গিয়ে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়া সম্ভব হবে না। আমরা বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
সচিবালয়ে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তারা বলেন, ‘আমরা সমস্যার কথা জানাতে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার দেখা পাইনি, কারণ তিনি তখন দপ্তরে ছিলেন না। এর আগে সোমবার আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গেও কথা বলতে ব্যর্থ হই। পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।’
দীর্ঘসূত্রতা ও সাক্ষাতের সুযোগ না পেলেও আশার আলো দেখছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ‘আমরা এখনো আশা করছি আমাদের এই মানবিক সংকটের একটি যৌক্তিক সমাধান হবে। বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে এ দেশে পড়তে এসেছি। বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নিয়ে দেশে ফিরতে চাই না।’
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর চিকিৎসা কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, মেডিকেল ডিগ্রি অর্জনের পর অনুমোদিত হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু হঠাৎ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) পাওয়া এবং ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী সচিবালয়ে আসেন। কিন্তু সচিবের দেখা না পেয়ে একপর্যায়ে তারা ফিরে যান। বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন ভারতীয় ও একজন মালদ্বীপের শিক্ষার্থীসহ মোট ৩১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিন শতাধিক।
গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।