• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার টাকার নোট বাতিল চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পরিকল্পিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির বিক্ষোভ বেকারত্ব সৃষ্টির শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে : রাষ্ট্রপতি বাস ভাড়া বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল: সেতুমন্ত্রী ককটেল বিস্ফোরণ-বাসে আগুন দিয়ে সংকট তৈরি করা যাবে না: জাহেদ হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৪৯ তেলের দাম বৃদ্ধিতে বেড়েছে বাস ভাড়া, বিপাকে যাত্রী ও মালিকরা টেকনাফ বেড়িবাঁধ প্রকল্পে সীমান্ত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে: এ্যানি বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বাড়ল ‌১৭ পয়সা

বাড়ছে নদ-নদীর পানি, আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

সিলেট প্রতিনিধি / ৬৪ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারণে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল বাড়ছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট। সেখানে বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার হলেও সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ১৪ মিটার। অর্থাৎ পানি বিপদসীমার মাত্র ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে এই পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১২ সেন্টিমিটার।

একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৩০ মিটার। সেখানে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার। ফলে পানি এখনো বিপদসীমার দেড় মিটারের মতো নিচে রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কানাইঘাট এলাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জেলার পর্যবেক্ষণাধীন পয়েন্টগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সিলেট শহর এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২ মিলিমিটার।

কুশিয়ারা নদীর পরিস্থিতি মিশ্র। শেওলা পয়েন্টে পানি বেড়েছে। সেখানে সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ১১ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৫০ মিটার। যদিও এ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। অন্যদিকে কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে। ফেঞ্চুগঞ্জে সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৯৪ মিটার, যা তিন ঘণ্টা পর নেমে আসে ৯ দশমিক ০৪ মিটারে। শেরপুর পয়েন্টে পানির সমতল ৭ দশমিক ৪৫ মিটার থেকে সামান্য কমে ৭ দশমিক ৪৪ মিটারে দাঁড়িয়েছে। দুটি পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি ছিল ১০ দশমিক ৭৮ মিটার, যেখানে বিপদসীমা ১২ দশমিক ০৫ মিটার। একই নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ০৮ মিটার থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩১ মিটারে পৌঁছেছে। তবে সেখানেও পানি বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে।

পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ১০ দশমিক ৪৯ মিটার। তিন ঘণ্টা পর তা বেড়ে ১০ দশমিক ৮২ মিটারে দাঁড়ায়। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ১৩ মিটার। ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানির সমতল সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১০ দশমিক ১৭ মিটারে পৌঁছেছে। তবে এ নদীর জন্য কোনো বিপদসীমা নির্ধারিত নেই। লোভাছড়া নদীর পর্যবেক্ষণ পয়েন্টের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা ও কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানির সমতল আরো বাড়তে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category