নদীভাঙন রোধে স্বল্পমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। একইসঙ্গে নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৭ অক্টোবর (বুধবার) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) চলমান কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।
বিপুল পরিমাণ পলি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমানো, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পানির পুনঃব্যবহারের নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওয়ারপোর চলমান সমীক্ষা দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পৃথক উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালনার তাগিদ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের ৫ হাজারের বেশি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং পাউবোর প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দেশব্যাপী নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।