সরকার বা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো অভিযোগ ‘মানহানি’ কিংবা ‘অপতথ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা সংবাদিক ও সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে বলে দাবি করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ । তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন রাজনৈতিক সমালোচনা, সাংবাদিকতা ও নাগরিকের মতপ্রকাশ দমনের হাতিয়ার যেন না হয়ে উঠে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ দিয়ে ফুয়াদ বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রথমে বলা হচ্ছে, তিনি বিএনপিকে নিয়ে কটু বা মিথ্যা কথা বলেছেন। অথচ এর কোনো প্রমাণ নেই। বরং পরবর্তী একটি ভিডিওতে সালমান নিজেই বলেছেন, বিএনপির লোকজন চাঁদা চেয়েছে এমন কথাও তিনি বলেননি।
ফুয়াদ বলেন, এরপর সালমানের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও নানা কথা বলা হচ্ছে। তার কতজন বান্ধবী, তিনি কী ধরনের ভিডিও বানান, তার শ্বশুর আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জড়িত কি না কিংবা মদের ব্যবসা করেন কি এসব বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন সালমান মুক্তাদিরকে তারা আসলে গ্রেপ্তার করতে চায়। তারা আসলে সাইজ করতে চায়। এখন সাইজ করার জন্য সরকারের কাছে কোনো সিরিয়াস টুলস নাই, যন্ত্র নাই। এজন্য এই কাজগুলো করতেছে।
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার পর মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের উদাহরণও দেন তিনি।
রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভাষানটেক এলাকার সরকার দলের নেতা ইব্রাহিমকে ‘কিলার ইব্রাহিম’ বলা হলে বা বিএনপির তত্ত্বাবধানে কেউ চাঁদাবাজি করছে এমন অভিযোগ করলে তা মানহানি হবে কি না, সেটিও প্রশ্ন।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ফুয়াদ। তার দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনা নিয়ে কথা বললেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানহানির অভিযোগের সুযোগ থাকবে কি না, প্রশ্ন করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্টে শুধু ‘লাইক’ বা ইমোজি দেওয়াকেও গুজব বা অপতথ্য সমর্থন হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফুয়াদ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা ঠেকাতে এ ধরনের আইন ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও একই পথে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।