• শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

পরিবারের সদস্যদের গুমের হুমকির অভিযোগ তানভীরের

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৫৬ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রিমান্ডে ৭০-৮০ ইনজেকশন ও ইলেকট্রিক শক দেওয়ার অভিযোগ করে নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, কারাগারে হওয়া নির্যাতনের কথা প্রকাশ করলে পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত নির্যাতন ও ইনজেকশনের প্রভাবে বর্তমানে তার শরীরের নিচের অংশের অনুভূতি ও প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তানভীর। অসুস্থতার কারণে তিনি কথা বলতে না পারায় তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত।

তানভীর বলেন, গত ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগার ও রিমান্ডে তাকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও সত্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর ৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে আলো-বাতাসহীন ও বিদ্যুৎবিহীন একটি সেলে রাখার অভিযোগ করেন তিনি। কারাগারে তাকে পচা ও বাসি খাবার দেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তানভীর। একপর্যায়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তানভীরের দাবি, চিকিৎসার সময় তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ না দিয়ে অজ্ঞাত ওষুধ দেওয়া হয়। শরীরে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একদিন ইনজেকশন দেওয়ার পর তার ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক স্ট্রোক হয়েছে বলে জানান বলে দাবি তার।

পরে এমআরআই করানোর সময় মেশিনের ভেতরে থাকা অবস্থায় সেটি বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তানভীর। এরপর কোমর থেকে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে তিনি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অচেতন ছিলেন বলে জানান। বর্তমানে তার প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ নেই এবং ব্যাগ ও প্যাড ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঢাকায় আনার পরও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তানভীর। তার ভাষ্য, হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কারাগারে নেওয়ার সময় সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে উঠে তাকে নির্যাতন করেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করে ‘জুলাইয়ের সবাইকে’ এভাবে নির্যাতন করা হবে বলে বলা হয়।

কারাগারে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বিশেষ সুবিধা ভোগ করতেন বলেও অভিযোগ করেন তানভীর। তার দাবি, তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভালো খাবার এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেতেন। রাতের বেলা গাড়িতে করে তাদের বাইরে নেওয়া হতো এবং ভোরে ফিরিয়ে আনা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আব্দুল আহাদ তানভীরের শারীরিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫০টিরও বেশি ইনজেকশনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব ইনজেকশন কে, কেন এবং কী চিকিৎসাগত কারণে দিয়েছেন, এ বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডা. আহাদ আরও বলেন, তানভীরের শরীরে ইলেকট্রিক শকের চিহ্নও দেখা গেছে। নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষায় থোরাসিক-১২ ভার্টিব্রার পর থেকে নিচের অংশে অনুভূতি পাওয়া যায়নি। তিনি পা নড়াতে পারছেন না এবং প্রস্রাবের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছেন। চিকিৎসকদের বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ক্যাথেটার দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান শারীরিক দুর্বলতা কতটা এবং কখন পুনরুদ্ধার হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানান ডা. আহাদ। ইলেকট্রিক শকের কারণে মেরুদণ্ড, নার্ভ রুট বা পেরিফেরাল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তানভীরের সঙ্গে হেফাজতে কী ঘটেছে, তার শরীরে ইনজেকশন ও ইলেকট্রিক শকের চিহ্ন কীভাবে এসেছে এবং এসবের পেছনে কোনো চিকিৎসাগত কারণ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ডা. আব্দুল আহাদ।

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরকে এক বছরের জামিন দেন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category