সরকারকে উদ্যেশ্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। তিনি বলেন, জনসাধারণের অধিকার নিয়ে আমাদের কর্মসূচী ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ওষুধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। আমাদের দাবি স্পষ্ট। ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন, তার সঙ্গে সপ্তম দফা হবে কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ, দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেক্ট্রিসিটি নাই, কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে, কারেন্টের ভুতুড়ে বিল আছে, পানির জন্য কথা বলা যাবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কি বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই সিফাতের মুখের ভাষা নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে। ওরে ছেড়ে দেন, ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন! যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে কেউ বলতে পারবে না।
জামায়াত নেতা বলেন, গন্তব্যের পথে বাধা আসলে আমরা লড়াই করতেই নেমেছি। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের গন্তব্যে ইনশাআল্লাহ পৌঁছব, কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, আপনারা দোয়া রাখবেন সবাই। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে, চলবে জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে এই আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।