নেপালে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানার এক সপ্তাহ পার হলেও, উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৮০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুধু নেপালেই উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ২৫২ জনের মরদেহ। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অংশে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
নেপালের ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ মিলে এখনও ৫ হাজার ৬২০ জন বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৫৫০ জন বিদেশি লাগরিক।
বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, ল্যাংটাং লিরুং পর্বতচূড়ার কাছে একটি বিশালাকার হিমবাহ ধসের ফলেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। পর্বত থেকে নেমে আসা পাথর, কাদা ও পানির প্রচণ্ড তোড়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ গ্রাম, সেতু ও সংযোগ সড়ক মুহূর্তে ভেসে যায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে নেপালের রসুয়া জেলায়। সেখানে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে এখনও শত শত শ্রমিক আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রসুয়ায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নেপালী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা সঞ্জয় কেসি জানান, সুড়ঙ্গের মুখে জমে থাকা বিশাল কাদার স্তূপ সরাতে ভারী বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে। ভেতরে পাওয়ার হাউসের বড় কক্ষে পানির প্রবেশ ঘটেনি- এমন আশা থেকেই অলৌকিকভাবে কারও বেঁচে থাকার প্রত্যাশায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
এদিকে দুর্যোগ কবলিত দুর্গম এলাকাগুলো থেকে আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার ও জিপলাইন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মতে, এই বন্যায় পুরো অঞ্চলে প্রায় ২২ লাখ টন বর্জ্য ও ধ্বংসাবশেষ জমেছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে পচন ধরা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক দলের তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এনডিআরআরএমএ-এর প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, দুযোর্গে পুরোপুরি ধ্বংস হওয়া সাড়ে সাত হাজার বাড়িসহ প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি নতুন করে তৈরি করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পুনরায় বসতি না গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বিভিন্ন স্কুল ও অস্থায়ী শিবিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেছে নেপাল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা নেপালের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা