• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

এমপিও শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চায় জামায়াত

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৭৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসন্না স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হলে সংবিধানে স্বীকৃত সমানাধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকএমপিওভুক্তদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‍“দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষকরা জাতীয় ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আসছেন। রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শিক্ষকরা প্রার্থী হয়েছেন। এ অবস্থায় কেবল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে মনে করে জামায়াত।”

তিনি জানান, দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে এ সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। তা না হলে বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।

বৈঠকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবিও জানায় জামায়াত। তবে, নিষিদ্ধ দলের সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলেনি দলটি।

এ ছাড়া ইসি সচিবালয়ে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানায় জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা কর্মকর্তার নিয়োগ নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তৈরি করে।

উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে সম্প্রতি দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ারও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। এসব প্রশাসককে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও তাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশ নেওয়া বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে জামায়াত।

গোলাম পরওয়ার জানান, কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের সঙ্গে একমত হয়েছে। তবে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে কমিশন নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছে। জনমত ও নাগরিক সমাজের পর্যালোচনার মুখে কমিশন তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে না। আগ্রহী ব্যক্তিরা স্বতন্ত্রভাবে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রযোজ্য হবে না বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category